একটি উৎকর্ষ যন্ত্রের গল্প
আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন দেখেছেন নিশ্চয়ই, কিংবা দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। দুইটা বিল্ডিং দেখতে যেমন ভিন্নতর, তাদের ইঞ্জিনিয়ারিংও ভিন্নতর। নয়তলা বিল্ডিংয়ের হিসাব নিশ্চয়ই একশ তেষট্টী তলার ক্ষেত্রে করা যাবে না। এখানে দুইটা বিল্ডিংকেই মজবুত, ভারসাম্যপূর্ণ, টেকসই করতে যে তত্ত্বগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আসলে পদার্থবিজ্ঞান আর মেকানিক্সের বিষয়। সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মস্তবড় দালান থেকে শুরু করে মহাকাশযান পর্যন্ত সবকিছু ভারসাম্যপূর্ণভাবে তৈরি করতে পারি।
এতোগেলো আমাদের তৈরি উৎকর্ষতার কথা। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল, আশ্চর্যজনক আর রোমাঞ্চকর যন্ত্র কী জানেন? যেটা আপনি কেন, কোনো মানুষই তৈরি করেনি! তা হলো আপাদমস্তক মানুষ। যার পরতে পরতে, প্রতি ন্যানোমিটারে — না না, পিকোমিটারে বা তার চেয়েও ক্ষুদ্রাংশে — রয়েছে অকল্পনীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিদর্শন।
যাইহোক, মেকানিক্স কিংবা পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে ফিজিওথেরাপিস্টের কী কাজ? ফিজিওথেরাপিস্টরা মূলত এই বিষয়টার সফল প্রয়োগ করেই ব্যথার উপশম করেন, পুনর্বাসন করেন আর সমস্যাগ্রস্ত মানুষদেরকে আগের চেয়ে শক্তিশালীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চেষ্টা করেন।
কীভাবে? খুব সহজে বুঝুন। ধরুন কেউ বাঁ পায়ে ব্যথার কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। আসলে তিনি কী করছেন — বাঁ পায়ে ব্যথার কারণে অল্প ভর দিয়ে ডান পা তাড়াতাড়ি সামনে আগাচ্ছেন। তাতে করে হাঁটার স্বাভাবিক মেকানিক্স পরিবর্তন হয়ে যায়। ডান হাঁটুর ওপর বেশি চাপ পড়বে, ডান হাঁটুকে নিয়ন্ত্রণ করা মাংসপেশিগুলো এবং কোমরের ডান পাশে বেশি অ্যাক্টিভিটি দেখাবে; এটাকে ভারসাম্য দিতে বাম পাশের কোমরের উপরের পেশি কম কাজ করবে, কোমরের ডান পাশকে নিয়ন্ত্রণ করতে ডানের একই পেশি বেশি বেশি কাজ করা লাগবে — ইত্যাদি। ফলে কোনো পেশি বেশি শক্তিশালী হবে, কোনোটা হবে কম। এভাবে পেশি এবং জয়েন্টের উপরে অযাচিত চাপ পড়তে থাকবে। তৈরি হবে ব্যথা এবং আরো অনেক যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা।
আমাদের দেশ তো বটেই, প্যারালাইসিসের সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই আছে। এই সমস্যাটি যেকারো জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। প্যারালাইসিস হয় বিভিন্ন কারণে — যেমন স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে ব্রেইন ইনজুরি, অথবা পেরিফেরাল নার্ভের সমস্যার কারণে। প্যারালাইসিসগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যেকোনো ফিজিওথেরাপিস্টের জন্যই রোমাঞ্চদায়ক। তারা সাধারণত মস্তিষ্কে প্রোগ্রামিং করে থাকেন — যাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি।
খেলার মাঠে তাসকিন-মুস্তাফিজদের যখন হঠাৎ পেশিতে টান পড়ে বা ইনজুরির কারণে লুটিয়ে পড়েন, তখন যে ব্যক্তিকে ছুটে গিয়ে তাদের সুশ্রূষা করতে দেখেন এবং পরক্ষণেই তারা খেলতে পারেন — সেই ব্যক্তিটি আসলে ফিজিওথেরাপিস্ট।
কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি) বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন (কার্ডিয়াক রিহ্যাব) হলো শিক্ষা এবং ব্যায়ামের একটি ব্যক্তিগতকৃত প্রোগ্রাম — ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে হৃদরোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ডিজাইন করা হয়। হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট সার্জারির পরে এটি সুপারিশ করা হয়। কার্ডিয়াক পুনর্বাসনে ব্যায়াম, প্রশিক্ষণ, ইমোশনাল সাপোর্ট এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।
ইনশাআল্লাহ, এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সবার মস্তিষ্ক-হৃদয়ে ভিন্ন ও উচ্চমাত্রা যোগ করে নানাবিধ সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে।